মদিনায় হিজরতের প্রস্তুতি

ষষ্ঠ অধ্যায়: মদিনায় হিজরতের প্রস্তুতি (নতুন দিগন্তের উন্মোচন)

ষষ্ঠ অধ্যায়: মদিনায় হিজরতের প্রস্তুতি (নতুন দিগন্তের উন্মোচন)

ইসরা ও মিরাজের মহাজাগতিক সম্মান প্রাপ্তির পর রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মক্কায় ফিরে এলেন, তখন তাঁর আধ্যাত্মিক মনোবল ছিল সুউচ্চ, কিন্তু জাগতিক পরিস্থিতি ছিল পূর্বের চেয়েও প্রতিকূল। চাচা আবু তালিবের মৃত্যুতে তিনি তাঁর গোত্রীয় সুরক্ষা হারিয়েছিলেন এবং প্রিয়তমা স্ত্রী খাদিজা (রা.)-এর মৃত্যুতে হারিয়েছিলেন তাঁর সবচেয়ে বড় মানসিক আশ্রয়স্থল।

তায়েফের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছিল যে, মক্কার নিকটবর্তী প্রভাবশালী কেন্দ্রগুলো ইসলামের দাওয়াত গ্রহণের জন্য প্রস্তুত নয়। এমতাবস্থায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর দাওয়াতের কৌশল পরিবর্তন করে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন।

তিনি তাঁর মিশনকে মক্কার সীমানা ছাড়িয়ে এক বিশ্বজনীন রূপ দেওয়ার জন্য হজের মৌসুমে আগত বিভিন্ন গোত্রের কাছে ইসলামের বাণী পৌঁছে দিতে শুরু করেন। এটি ছিল এক নতুন কেন্দ্র বা আবাসভূমি খুঁজে বের করার এক ঐশ্বরিক প্রয়াস, যা ইসলামের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

৬.১ ইয়াসরিবের আলোক রশ্মি: আউস ও খাযরাজের ঐতিহাসিক আগমন

রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি বছর হজের সময় মিনা, উকাজ মেলা এবং বিভিন্ন গোত্রের তাঁবুতে গিয়ে ইসলামের দাওয়াত পেশ করতেন। তিনি বলতেন,

অধিকাংশ গোত্র, যেমন বনু হানিফা, বনু আমির প্রমুখ, তাঁকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করত। তারা তাদের পূর্বপুরুষদের ধর্ম এবং কুরাইশদের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নষ্ট করতে চায়নি।

এই আপাত ব্যর্থতার মধ্যেই নবুয়তের একাদশ বছরে এক ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়। হজের মৌসুমে, মিনা থেকে মক্কার প্রবেশপথে আকাবা নামক স্থানে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইয়াসরিব (পরবর্তীতে মদিনা) থেকে আগত খাযরাজ গোত্রের ছয়জন যুবকের একটি দলের দেখা পান।

ইয়াসরিবের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল মক্কার চেয়ে ভিন্ন। সেখানকার প্রধান দুটি আরব গোত্র ছিল আউস ও খাযরাজ, যারা প্রায় ১২০ বছর ধরে ‘বুয়াস যুদ্ধ’ নামক এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে লিপ্ত থেকে ক্লান্ত, বিপর্যস্ত এবং একজন নিরপেক্ষ ও যোগ্য নেতার সন্ধানে ছিল।⁵¹

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ইহুদিদের ভবিষ্যদ্বাণী:

ইয়াসরিবে একটি প্রভাবশালী ইহুদি জনগোষ্ঠী বসবাস করত। তারা তাদের ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী একজন শেষ নবীর আগমনের অপেক্ষায় ছিল। তারা প্রায়ই আউস ও খাযরাজ গোত্রের আরবদের সাথে বিবাদের সময় বলত,

এই ভবিষ্যদ্বাণী ইয়াসরিবের আরবদের মনে শেষ নবী সম্পর্কে এক ধরনের কৌতূহল ও প্রত্যাশা তৈরি করে রেখেছিল।

ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ ও ইসলাম গ্রহণ:

রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন এই ছয়জন যুবকের (যাদের মধ্যে আস’আদ ইবনে যুরারাহ এবং জাবির ইবনে আবদুল্লাহ উল্লেখযোগ্য) কাছে গিয়ে ইসলামের একত্ববাদের দাওয়াত দিলেন এবং কুরআনের কিছু আয়াত তেলাওয়াত করে শোনালেন, তখন তারা একে অপরের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল,

তারা বুঝতে পারছিলেন যে, এই একত্ববাদের বাণীই পারে তাদের শতবর্ষের পুরনো গোত্রীয় সংঘাতের অবসান ঘটাতে এবং তাদের একতাবদ্ধ করতে। তাই তাঁরা কালবিলম্ব না করে ইসলাম গ্রহণ করলেন।⁵²

৬.২ আকাবার প্রথম শপথ: এক নৈতিক বিপ্লবের ভিত্তি স্থাপন

পরের বছর, নবুয়তের দ্বাদশ বছরে, হজের মৌসুমে, পূর্বের ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনসহ মোট বারোজন ব্যক্তি (আউস গোত্র থেকে ২ জন এবং খাযরাজ গোত্র থেকে ১০ জন) ইয়াসরিব থেকে এসে আকাবা নামক স্থানে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে গোপনে সাক্ষাৎ করেন।

এখানেই ইসলামের ইতিহাসে ‘আকাবার প্রথম শপথ’ (বাই’য়াত আল-আকাবাহ আল-উলা) অনুষ্ঠিত হয়। এই শপথটি ‘বাই’য়াত আন-নিসা’ (নারীদের শপথ) নামেও পরিচিত, কারণ এর শর্তগুলো ছিল সম্পূর্ণরূপে নৈতিক ও সামাজিক, যেখানে কোনো যুদ্ধ বা রাজনৈতিক সুরক্ষার কথা ছিল না।

তাঁরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ওপর শপথ গ্রহণ করেন:⁵³

  1. আমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করব না (শিরক)।
  2. আমরা চুরি করব না।
  3. আমরা ব্যভিচার করব না।
  4. আমরা আমাদের সন্তানদের (বিশেষ করে কন্যাসন্তান) হত্যা করব না।
  5. আমরা কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ বা কুৎসা রটনা করব না।
  6. আমরা কোনো ভালো ও ন্যায়সঙ্গত কাজে রাসুল (সা.)-এর অবাধ্য হব না।

ইসলামের প্রথম রাষ্ট্রদূত: মুসআব ইবনে উমাইর (রা.):

এই শপথের পর ইয়াসরিবের নওমুসলিমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এমন একজনকে চাইলেন, যিনি তাদের কুরআন শেখাবেন এবং ইসলামের পরিপূর্ণ শিক্ষা দেবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই গুরুদায়িত্বের জন্য মুসআব ইবনে উমাইর (রা.)-কে নির্বাচন করলেন।

মুসআব (রা.) ছিলেন মক্কার এক অভিজাত ও ধনী পরিবারের সন্তান, যিনি তাঁর সৌন্দর্য ও মূল্যবান পোশাকের জন্য পরিচিত ছিলেন। ইসলামের জন্য তিনি সকল বিলাসিতা ও পারিবারিক সম্মান ত্যাগ করেছিলেন। তিনি ছিলেন ইসলামের ইতিহাসে প্রথম আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রদূত বা দাঈ।⁵⁴

৬.৩ মুসআব (রা.)-এর প্রজ্ঞাপূর্ণ দাওয়াত: মদিনার ঘরে ঘরে ইসলামের আলো

মুসআব (রা.) ইয়াসরিবে গিয়ে আস’আদ ইবনে যুরারার বাড়িতে অবস্থান করেন এবং অত্যন্ত প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও সুন্দর আচরণের মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত দিতে শুরু করেন। তাঁর দাওয়াতে ইয়াসরিবে এক নীরব বিপ্লব ঘটে যায়।

উসায়েদ ইবনে হুদাইর ও সাদ ইবনে মু’আযের ইসলাম গ্রহণ:

আউস গোত্রের দুই প্রভাবশালী নেতা, উসায়েদ ইবনে হুদাইরসাদ ইবনে মু’আয, প্রথমে মুসআব (রা.)-এর দাওয়াতের বিরোধিতা করেন। সাদ ইবনে মু’আয তাঁর বন্ধু উসায়েদকে পাঠান মুসআবকে ইয়াসরিব থেকে বিতাড়িত করার জন্য।

উসায়েদ রাগান্বিত অবস্থায় বর্শা হাতে সেখানে উপস্থিত হলে, মুসআব (রা.) অত্যন্ত শান্তভাবে বলেন,

উসায়েদ রাজি হলেন। মুসআব (রা.)-এর সুললিত কণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াত শুনে তাঁর কঠোর হৃদয় গলে গেল এবং তাঁর মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি সেখানেই ইসলাম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তাঁর পরামর্শে সাদ ইবনে মু’আযও আসেন এবং একইভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন।

এরপর সাদ (রা.) নিজ গোত্র বনু আবদিল আশহালের কাছে গিয়ে বলেন, “আমার কথা তোমাদের কাছে কেমন?”

তারা বলে, “আপনি আমাদের নেতা।” তখন তিনি বলেন,

তাঁর এই ঘোষণার পর সেদিন সন্ধ্যার মধ্যে তাঁর পুরো গোত্র ইসলাম গ্রহণ করে।⁵⁵

বিশ্লেষণ:

মুসআব (রা.)-এর সাফল্য প্রমাণ করে যে, ইসলামের দাওয়াতের মূল শক্তি তরবারি নয়, বরং প্রজ্ঞা, উত্তম চরিত্র এবং কুরআনের হৃদয়স্পর্শী আবেদন।

তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে এক বছরের মধ্যে ইয়াসরিবের প্রায় প্রতিটি ঘরে ইসলামের আলো পৌঁছে যায় এবং ইয়াসরিব রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হিজরতের জন্য একটি উর্বর ও প্রস্তুত ভূমিতে পরিণত হয়।

৬.৪ আকাবার দ্বিতীয় শপথ: ইসলামি রাষ্ট্র গঠনের ঐতিহাসিক মৈত্রী চুক্তি

পরবর্তী হজের মৌসুমে, নবুয়তের ত্রয়োদশ বছরে, মুসআব (রা.)-এর সাথে ইয়াসরিব থেকে ৭৩ জন পুরুষ ও ২ জন নারী (নুসাইবাহ বিনতে কাব ও আসমা বিনতে আমর) এক বিশাল প্রতিনিধি দল মক্কায় আসে। তারা রাতের অন্ধকারে আকাবা নামক স্থানে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে মিলিত হন।

রাসুল (সা.)-এর সাথে তাঁর চাচা আব্বাস (রা.)-ও উপস্থিত ছিলেন, যিনি তখনো ইসলাম গ্রহণ না করলেও ভাতিজার নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন।

এই সাক্ষাৎকারে যে শপথ অনুষ্ঠিত হয়, তা ‘আকাবার দ্বিতীয় শপথ’ (বাইয়াত আল-আকাবাহ আস-সানিয়াহ) নামে পরিচিত এবং একে ‘বাই’য়াত আল-হারব’ (যুদ্ধের শপথ)-ও বলা হয়, কারণ এর শর্তগুলো ছিল আরও সুদূরপ্রসারী এবং এতে রাজনৈতিক ও সামরিক সুরক্ষার অঙ্গীকার ছিল।

আব্বাস (রা.) প্রথমে ইয়াসরিবের লোকদের এই অঙ্গীকারের গুরুত্ব সম্পর্কে সতর্ক করেন। এরপর মদিনার প্রতিনিধিরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে তাঁদের দাবি ও শর্তাবলী পেশ করতে বললে তিনি কুরআন তেলাওয়াত করেন এবং ইসলামের প্রতি আহ্বান জানান। এরপর তাঁরা শপথ করেন যে:⁵⁶

  • তাঁরা সর্বাবস্থায় রাসুল (সা.)-এর কথা শুনবেন ও মানবেন।
  • তাঁরা সচ্ছল ও অসচ্ছল উভয় অবস্থায় আল্লাহর পথে খরচ করবেন।
  • তাঁরা সৎ কাজের আদেশ দেবেন এবং অসৎ কাজে নিষেধ করবেন।
  • তাঁরা আল্লাহর পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করবেন না।
  • যখন রাসুল (সা.) তাঁদের কাছে যাবেন, তখন তাঁরা তাঁকে সাহায্য করবেন এবং যেভাবে নিজেদের স্ত্রী-সন্তানদের রক্ষা করেন, সেভাবেই তাঁকে রক্ষা করবেন।

বিশ্লেষণ:

আকাবার দ্বিতীয় শপথ ছিল ইসলামের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। এটি শুধু কিছু ব্যক্তির ইসলাম গ্রহণ ছিল না, বরং এটি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক ও সামরিক মৈত্রী চুক্তি।

এর মাধ্যমে ইয়াসরিবের মুসলমানরা (পরবর্তীতে ‘আনসার’ বা সাহায্যকারী) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে শুধু একজন নবী হিসেবেই নয়, বরং একজন রাষ্ট্রনেতা ও আশ্রয়দাতা হিসেবে গ্রহণ করে নিল। এই শপথের মাধ্যমেই মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র গঠনের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।

৬.৫ হিজরতের অনুমতি: এক নতুন অধ্যায়ের পথে যাত্রা

আকাবার দ্বিতীয় শপথে একটি নিরাপদ আবাসভূমি নিশ্চিত হওয়ার পর, আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মক্কার নির্যাতিত মুসলিমদের হিজরতের অনুমতি প্রদান করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,

এই ঘোষণার পর সাহাবীরা তাঁদের জন্মভূমি, ঘরবাড়ি, সহায়-সম্পদ—সবকিছু ত্যাগ করে শুধুমাত্র ঈমানকে রক্ষা করার জন্য গোপনে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে মদিনার পথে যাত্রা শুরু করেন। সুহাইব আর-রুমি (রা.)-এর মতো সাহাবী তাঁর সমস্ত সম্পদ কাফিরদের দিয়ে দিয়ে শুধুমাত্র ঈমান নিয়ে হিজরত করেন।

কুরাইশরা বাধা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও ঈমানের টানে এই যাত্রা ছিল অপ্রতিরোধ্য। মক্কা ধীরে ধীরে মুমিনদের উপস্থিতিতে খালি হতে শুরু করে, যা কুরাইশদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও হতাশার সৃষ্টি করে এবং এটিই পরবর্তী অধ্যায়ে রাসুল (সা.)-কে হত্যার ষড়যন্ত্রের প্রেক্ষাপট তৈরি করে।⁵⁷

তথ্যসূত্র: ষষ্ঠ অধ্যায়: মদিনায় হিজরতের প্রস্তুতি

  • ⁵⁰ ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নববীয়্যাহ, ১/৪২৩-৪২৮; আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃ. ১৪২-১৪৪।
  • ⁵¹ ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নববীয়্যাহ, ১/৪৩১-৪৩৪; আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃ. ১৪৫।
  • ⁵² আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃ. ১৪৬-১৪৭।
  • ⁵³ ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নববীয়্যাহ, ১/৪৩৮-৪৩৯; সহীহ আল-বুখারী, হাদিস নং ১৮, ৩৮৯২।
  • ⁵⁴ ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নববীয়্যাহ, ১/৪৪০; আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃ. ১৪৯।
  • ⁵⁵ ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নববীয়্যাহ, ১/৪৪১-৪৪৫; আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃ. ১৫০-১৫২।
  • ⁵⁶ সহীহ আল-বুখারী, হাদিস নং ৩৯২; ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নববীয়্যাহ, ১/৪৪৯-৪৬৬; আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃ. ১৫৩-১৫৮।
  • ⁵⁷ ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নববীয়্যাহ, ১/৪৭৪-৪৭

Ha-mim Zubaer