নবুওয়াত লাভ ও প্রথম ওহী

তৃতীয় অধ্যায়: নবুওয়াত লাভ ও প্রথম ওহী

তৃতীয় অধ্যায়: নবুওয়াত লাভ ও প্রথম ওহী

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের গতিপথ যে এক অভাবনীয় ও মহাজাগতিক দিকে মোড় নিচ্ছিল, তার চূড়ান্ত মুহূর্তটি ছিল নবুওয়াত লাভ ও প্রথম ওহীর সেই ঐতিহাসিক মূহুর্তটি। এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং এক দীর্ঘ আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির চূড়ান্ত পরিণতি।

এই অধ্যায়ে আমরা সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত, তার প্রেক্ষাপট এবং তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে আলোচনা করব।

৩.১ হেরা গুহায় ধ্যানমগ্নতা: আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির পর্ব

চল্লিশ বছর বয়সের কাছাকাছি এসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মধ্যে এক গভীর পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সমাজের অনাচার, মূর্তিপূজার অন্তঃসারশূন্যতা এবং নৈতিক অবক্ষয় তাঁর চিন্তাশীল মনকে ক্রমশ অস্থির করে তুলছিল।

তিনি এই কোলাহলপূর্ণ ও পাপপঙ্কিল সমাজ থেকে দূরে, একাকী স্রষ্টার সান্নিধ্যে সময় কাটাতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এই আত্মিক প্রশান্তি ও সত্যের সন্ধানে তিনি বেছে নিয়েছিলেন মক্কা থেকে সামান্য দূরে অবস্থিত ‘জাবালুন নূর’ (আলোর পাহাড়)-এর চূড়ায় অবস্থিত নিরিবিলি হেরা গুহা।²³

একাকীত্বের কারণ ও উদ্দেশ্য:

তাঁর এই নির্জনবাস ছিল মূলত ‘তাফাক্কুর’ বা গভীর চিন্তাভাবনার জন্য। তিনি ভাবতেন এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য নিয়ে। এই চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র—এগুলোর স্রষ্টা কে? তিনি কীভাবে এই সুশৃঙ্খল বিশ্বজগত পরিচালনা করেন? মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য কী?

জাহেলিয়াতের কুসংস্কারাচ্ছন্ন অভ্যাসগুলো তাঁর বিবেককে পীড়া দিত, এবং তিনি ‘হানিফ’ বা একনিষ্ঠ ইবরাহিমি ঐতিহ্যের ধারায় এক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টার অস্তিত্বকে গভীরভাবে অনুভব করতেন। এই নির্জনবাস ছিল সেই মহান সত্তার সাথে আধ্যাত্মিক সংযোগ স্থাপনের এক ঐকান্তিক প্রচেষ্টা।

খাদিজা (রা.)-এর নিঃশর্ত সমর্থন:

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই আধ্যাত্মিক সাধনায় সবচেয়ে বড় সহযোগী ছিলেন তাঁর জীবনসঙ্গিনী হজরত খাদিজা (রা.)। তিনি শুধু তাঁর স্বামীকে নির্জনে যাওয়ার অনুমতিই দেননি, বরং তাঁর জন্য খাবার ও পানীয় প্রস্তুত করে গুহায় পৌঁছে দিতেন।

তিনি স্বামীর এই আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের গভীরতা উপলব্ধি করতেন এবং সবরকমভাবে তাঁকে সহযোগিতা করতেন। খাদিজা (রা.)-এর এই নিঃশর্ত সমর্থন রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দুনিয়াবি চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে সাধনায় পুরোপুরি মনোনিবেশ করতে সাহায্য করেছিল।

বিশ্লেষণ:

হেরা গুহার এই পর্বটি ছিল নবুওয়াতের গুরুদায়িত্ব গ্রহণের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ প্রশিক্ষণ বা ‘তারবিয়াহ’। এটি ছিল তাঁর হৃদয়কে জাগতিক সকল মোহ ও কোলাহল থেকে পরিশুদ্ধ করে তোলার প্রক্রিয়া, যেন তা আসমানি বাণী বা ‘ওহী’ ধারণ করার জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত হতে পারে।

এই ঘটনা শিক্ষা দেয় যে, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও সত্যের উপলব্ধি কোলাহলপূর্ণ জীবনে সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন গভীর চিন্তা, আত্মবিশ্লেষণ এবং জাগতিক আকর্ষণ থেকে সাময়িক বিচ্ছিন্নতা।

৩.২ প্রথম ওহী লাভ: মহাজাগতিক সেই মুহূর্ত

 

নবুওয়াত লাভ ও প্রথম ওহীর

ঐতিহাসিক সেই রাতটি ছিল রমজান মাসের এক বিশেষ রাত। রাসুলুল্লাহ (সা.) হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন ছিলেন। হঠাৎ এক অভূতপূর্ব সত্তার আগমনে গুহার সমস্ত নীরবতা ভেঙে গেল। তিনি ছিলেন আল্লাহর দূত, ফেরেশতা হজরত জিবরাইল (আ.)।

ঐতিহাসিক বর্ণনা:

বিশুদ্ধ হাদিস অনুযায়ী, জিবরাইল (আ.) মানব আকৃতিতে এসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বললেন, “ইকরা!” (পড়ো!)। মুহাম্মদ (সা.) নিজের সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে বললেন, “মা আনা বি-ক্বারি” (আমি পড়তে জানি না)।

এরপর জিবরাইল (আ.) তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরে এমন শক্তভাবে চাপ দিলেন যে তিনি কষ্ট অনুভব করলেন। এরপর ছেড়ে দিয়ে আবার বললেন, “পড়ো!”। তিনি একই উত্তর দিলেন।

এভাবে তিনবার বুকে জড়িয়ে ধরার পর সেই মহিমান্বিত আয়াতগুলো পাঠ করলেন, যা ছিল মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত শেষ সংবিধান, আল-কুরআনের সর্বপ্রথম বাণী:

বিশ্লেষণ:

এই অভিজ্ঞতা কোনো শান্ত, বুদ্ধিবৃত্তিক বা দার্শনিক মুহূর্ত ছিল না। এটি ছিল এক প্রচণ্ড শক্তিশালী, অপ্রতিরোধ্য এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্তিকর ঘটনা। ওহীর মহাজাগতিক ওজন ছিল এতটাই ভারী যে তা ধারণ করা সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব। এই ঘটনার কয়েকটি দিক প্রণিধানযোগ্য:

  • “ইকরা” (পড়ো): এমন এক সমাজে, যেখানে লেখা ও পড়ার কোনো সংস্কৃতিই ছিল না, সেখানে প্রথম ঐশ্বরিক নির্দেশ ছিল “পড়ো”। এটি ইসলামের জ্ঞানভিত্তিক সভ্যতার মূল ভিত্তি স্থাপন করে। ইসলাম অন্ধবিশ্বাসের ধর্ম নয়, বরং জ্ঞান, গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধানের ধর্ম—এটিই ছিল প্রথম বার্তা।
  • সৃষ্টি ও স্রষ্টার সম্পর্ক: আয়াতগুলোতে মানুষকে তার নিজের অতি সাধারণ উৎস (জমাট রক্ত) স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্রষ্টার মহত্ত্বকে তুলে ধরা হয়েছে, যা মানুষের অহংকার চূর্ণ করে দেয়।
  • কলমের মর্যাদা: “কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন” বাক্যটি জ্ঞানার্জন ও জ্ঞান সংরক্ষণের মাধ্যম হিসেবে লেখনীর মর্যাদাকে আসমানি স্বীকৃতি দিয়েছে।

৩.৩ নবুওয়াত লাভ ও প্রথম ওহী প্রাপ্তীর প্রতিক্রিয়া ও খাদিজা (রা.)-এর প্রজ্ঞাপূর্ণ ভূমিকা

প্রথম ওহীর এই অভাবনীয় অভিজ্ঞতার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রচণ্ড ভীত ও শারীরিক-মানসিকভাবে বিধ্বস্ত অবস্থায় কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি ফিরে এলেন। তাঁর প্রথম আশ্রয়স্থল ছিলেন তাঁর বিশ্বস্ত স্ত্রী খাদিজা (রা.)।

“জাম্মিলুনি, দাসসিরুনি” তিনি ঘরে ঢুকেই খাদিজা (রা.)-কে বললেন, “আমাকে চাদর দিয়ে জড়িয়ে দাও, আমাকে জড়িয়ে দাও!” তাঁর শরীর কাঁপছিল এবং তিনি নিজের জীবনের আশঙ্কা করছিলেন।

খাদিজা (রা.)-এর ঐতিহাসিক আশ্বাস:

এই চরম মুহূর্তে খাদিজা (রা.) সামান্যও বিচলিত হননি। তিনি তাঁর প্রজ্ঞা ও গভীর ভালোবাসা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে শুধু সান্ত্বনাই দেননি, বরং যৌক্তিক প্রমাণের মাধ্যমে তাঁকে আশ্বস্ত করেন।

তাঁর সেই অমর বাণী ছিল:

এই কথাগুলো ছিল নবুওয়াতের পূর্বে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চল্লিশ বছরের নিষ্কলুষ জীবনের এক অকাট্য সার্টিফিকেট।

ওয়ারাকা বিন নওফেলের নিকট গমন:

এরপর খাদিজা (রা.) তাঁকে নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা বিন নওফেলের কাছে যান। ওয়ারাকা ছিলেন একজন বয়োবৃদ্ধ খ্রিস্টান পণ্ডিত, যিনি পূর্ববর্তী আসমানি কিতাব সম্পর্কে জ্ঞান রাখতেন এবং একজন ‘হানিফ’ ছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুখে সমস্ত ঘটনা শুনে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলে ওঠেন,

রাসুলুল্লাহ (সা.) আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করেন, “তারা কি আমাকে বের করে দেবে?” ওয়ারাকা বলেন,

বিশ্লেষণ:

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের এই সংকটময় মুহূর্তে খাদিজা (রা.)-এর ভূমিকা ছিল স্তম্ভের মতো। তিনি ছিলেন প্রথম ঈমান আনয়নকারী এবং রাসুল (সা.)-এর মানসিক শক্তির প্রধান উৎস। তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ ও বিশ্বাসী প্রতিক্রিয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে স্থিতিশীল করে তোলে।

অন্যদিকে, ওয়ারাকার স্বীকৃতি ঘটনাটিকে পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদের ধারাবাহিকতার সাথে যুক্ত করে এবং নবুওয়াতের সত্যতাকে একটি ঐতিহাসিক ভিত্তি প্রদান করে।

৩.৪ প্রথম মুসলিমগণ: এক বৈপ্লবিক সমাজের সূচনা

নবুওয়াতের প্রাথমিক পর্যায়ে দাওয়াত ছিল অত্যন্ত গোপনীয় এবং কেবল বিশ্বস্ত ও কাছের মানুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই সময়ে যাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেন, তাঁরা ইতিহাসে ‘আস-সাবেকুনাল আউয়ালুন’ (সর্বপ্রথম অগ্রগামীগণ) নামে পরিচিত।

প্রথম ঈমান আনয়নকারীগণ:

এই অগ্রগামী দলটি ছিল সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের এক অসাধারণ সমাবেশ, যা ইসলামের সার্বজনীন আবেদনকে প্রমাণ করে:²⁶

  • নারীদের মধ্যে প্রথম: হজরত খাদিজা (রা.)।
  • স্বাধীন পুরুষদের মধ্যে প্রথম: হজরত আবু বকর (রা.)।
  • কিশোরদের মধ্যে প্রথম: হজরত আলি (রা.) (বয়স আনুমানিক ১০ বছর)।
  • মুক্ত দাসদের মধ্যে প্রথম: হজরত জায়েদ বিন হারেসা (রা.)।

আবু বকর (রা.)-এর অবদান:

হজরত আবু বকর (রা.) শুধু নিজেই ইসলাম গ্রহণ করেননি, বরং তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম দাঈ বা প্রচারক। তাঁর চারিত্রিক মাধুর্য ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর নিকটতম বন্ধুরা তাঁর দাওয়াতে সাড়া দেন।

তাঁর মাধ্যমেই ইসলামের প্রথম যুগে এমন একদল তারকা ইসলাম গ্রহণ করেন, যাঁরা পরবর্তীতে উম্মাহর স্তম্ভে পরিণত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন হজরত উসমান বিন আফফান, জুবাইর ইবনুল আওয়াম, আবদুর রহমান বিন আউফ, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস এবং তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রা.)—যাঁদের অনেকেই ছিলেন ‘আশারায়ে মুবাশশারা’ বা দুনিয়ায় জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশ সাহাবীর অন্তর্ভুক্ত।²⁷

দারুল আরকাম: প্রথম ইসলামি কেন্দ্র:

দাওয়াতের প্রাথমিক পর্যায়ে মুসলিমদের সংখ্যা যখন বাড়তে শুরু করল, তখন তাঁদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য একটি নিরাপদ কেন্দ্রের প্রয়োজন দেখা দিল। সাফা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত আরকাম ইবনে আবিল আরকামের বাড়িটি (দারুল আরকাম) হয়ে ওঠে ইসলামের প্রথম গোপন কেন্দ্র।

এখানেই রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবীদের কুরআনের আয়াত শেখাতেন, তাঁদের ঈমানী প্রশিক্ষণ দিতেন এবং একটি সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনের প্রাথমিক পাঠ দিতেন। প্রায় চল্লিশজন সাহাবী ইসলাম গ্রহণের পর হজরত ওমর (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত এই কেন্দ্রটিই ছিল মুসলিমদের ঠিকানা।²⁸

বিশ্লেষণ:

প্রথম ইসলাম গ্রহণকারীদের এই বৈচিত্র্য প্রমাণ করে যে, ইসলামের আবেদন কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি, বয়স বা লিঙ্গের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল আলো না।

একজন অভিজাত নারী, একজন সম্মানিত ব্যবসায়ী, একজন কিশোর এবং একজন মুক্ত দাস—সবাইকে এক পতাকাতলে একত্রিত করার মধ্য দিয়ে ইসলাম এক নতুন বৈষম্যহীন সমাজের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। দারুল আরকামের এই গোপন পর্বটি ছিল একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা কুরাইশদের সম্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে দাঁড়ানোর আগে মুসলিমদের একটি শক্তিশালী ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কেন্দ্রবিন্দু (core) হিসেবে গড়ে তুলেছিল।

রাসুল সা. এর নবুওয়াত লাভ ও প্রথম ওহী প্রাপ্তির এই ঘটনাটিই ইতিহাসের নতুন পথের সূচনা করেছিল।

তথ্যসূত্র: তৃতীয় অধ্যায়: নবুওয়াত লাভ ও প্রথম ওহী

  • ²³ আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃ. ৭৪; সহীহ আল-বুখারী, হাদিস নং ৩।
  • ²⁴ আল-কুরআন, সূরা আল-আলাক, ৯৬:১-৫।
  • ²⁵ সহীহ আল-বুখারী, হাদিস নং ৩ ও ৪৯৫৩; ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নববীয়্যাহ, ১/২৫২-২৫৯।
  • ²⁶ ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নববীয়্যাহ, ১/২৬২-২৬৪; আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃ. ৮১।
  • ²⁷ আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃ. ৮২-৮৩; ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নববীয়্যাহ, ১/২৬৭-২৬৯।
  • ²⁸ ইবনে সা’দ, কিতাবুত তাবাকাত আল-কবীর, ৩/২৪২; আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃ. ৮৮।

Ha-mim Zubaer