রাসুলুল্লাহ সা. এর ওফাত

বিংশ অধ্যায়: রাসুলুল্লাহ সা. এর ওফাত ও উত্তরাধিকার (আলোর পথের চিরন্তন দিশা)

বিংশ অধ্যায়: রাসুলুল্লাহ সা. এর ওফাত ও উত্তরাধিকার (আলোর পথের চিরন্তন দিশা)

বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে দ্বীনের পূর্ণতার ঐশ্বরিক ঘোষণা এবং এরপর ‘সূরা আন-নাসর’ (যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে…) নাজিল হওয়ার পর মদিনার প্রাজ্ঞ ও বিচক্ষণ সাহাবীরা বুঝতে পেরেছিলেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পৃথিবীতে অবস্থানের সময় প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।

তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য—আল্লাহর বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং শিরকের অন্ধকার দূর করে তাওহীদের আলো প্রজ্বলিত করা—সম্পূর্ণরূপে সম্পন্ন হয়েছিল। নবুয়তের যে মহান দায়িত্ব নিয়ে তিনি তেইশ বছর আগে হেরা গুহা থেকে নেমে এসেছিলেন, তা আজ এক বিশাল ও সফল সভ্যতায় রূপান্তরিত হয়েছে। এবার তাঁর পার্থিব জীবনের সমাপ্তি এবং মহান রবের সান্নিধ্যে ফিরে যাওয়ার পালা।

২০.১ জীবনের শেষ দিনগুলো: উম্মতের জন্য চূড়ান্ত নির্দেশনা

একাদশ হিজরির সফর মাসের শেষের দিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনার জান্নাতুল বাকী গোরস্থানে গিয়ে মৃতদের জন্য দীর্ঘক্ষণ দোয়া করেন। সেখান থেকে ফেরার পর পরই তিনি প্রচণ্ড মাথাব্যথা ও জ্বরে আক্রান্ত হন। ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং জ্বর এতটাই তীব্র হয় যে তাঁর মাথায় রাখা পানিমিশ্রিত পট্টিও শুকিয়ে যেত।

অসুস্থতার তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে তিনি তাঁর অন্যান্য স্ত্রীদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তাঁর প্রিয় স্ত্রী হজরত আয়েশা (রা.)-এর হুজরায় (কক্ষে) অবস্থান গ্রহণ করেন। এই চরম অসুস্থতা ও শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যেও তিনি উম্মতের কল্যাণের কথা এক মুহূর্তের জন্যও ভোলেননি।

শেষ ইমামতি ও আবু বকর (রা.)-এর প্রতি ইঙ্গিত:

অসুস্থতা যখন এতটাই তীব্র হয় যে তাঁর পক্ষে মসজিদে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন তিনি মসজিদে নববীতে ইমামতি করার জন্য তাঁর আজীবনের বিশ্বস্ত সঙ্গী হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-কে নির্দেশ দেন। হজরত আয়েশা (রা.) তাঁর পিতার কোমল হৃদয়ের কথা ভেবে অন্য কাউকে এই দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধ করলেও, রাসুল (সা.) দৃঢ়তার সাথে তাঁর সিদ্ধান্তেই অটল থাকেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় আবু বকর (রা.)-এর ১৭ ওয়াক্ত সালাতে ইমামতি করা ছিল এক ঐতিহাসিক ঘটনা। এটি ছিল তাঁর পরে মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্বে কে আসবেন এবং উম্মাহর রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশক কে হবেন, তার প্রতি এক সুস্পষ্ট ও প্রজ্ঞাপূর্ণ ইঙ্গিত।¹⁴⁸

উম্মতের জন্য শেষ ওসিয়ত:

ইন্তেকালের কিছুদিন পূর্বে, যখন তিনি কিছুটা সুস্থতা অনুভব করলেন, তখন হজরত আলি (রা.) ও ফজল ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কাঁধে ভর করে তিনি মসজিদে নববীতে আসেন। তিনি মিম্বরে বসে সাহাবীদের উদ্দেশ্যে এক মর্মস্পর্শী ভাষণ দেন। তিনি বলেন,

পূর্ববর্তী জাতিগুলো তাদের নবীদের কবরকে উপাসনালয় বানিয়ে কীভাবে ধ্বংস হয়েছিল, সে কথা উল্লেখ করে তিনি শিরকের ব্যাপারে উম্মতকে চূড়ান্তভাবে সতর্ক করে যান।

তিনি মদিনার আনসারদের অসামান্য ত্যাগের কথা স্মরণ করে মুহাজিরদের নির্দেশ দেন আনসারদের অধিকারের প্রতি খেয়াল রাখার জন্য। ইন্তেকালের ঠিক আগ মুহূর্তে তাঁর শ্বাসকষ্ট যখন বেড়ে গিয়েছিল, তখনো তাঁর মোবারক মুখ থেকে অস্পষ্ট উচ্চারণে বের হচ্ছিল উম্মতের প্রতি তাঁর শেষ ওসিয়ত:

এই কথাগুলো তিনি বারবার বলতে থাকেন, যা প্রমাণ করে যে, আল্লাহর হক (সালাত) এবং বান্দার হক (অধীনস্থদের অধিকার)—এই দুটি বিষয়ের ওপরই ইসলামি সমাজের ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে।¹⁴⁹

২০.২ মহান রবের ডাকে সাড়া: পার্থিব জীবনের সমাপ্তি

একাদশ হিজরির ১২ই রবিউল আউয়াল, সোমবার। এই দিন সকালে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অবস্থার কিছুটা উন্নতি দেখা যায়। হজরত আবু বকর (রা.) তখন ফজরের সালাতে ইমামতি করছিলেন। রাসুল (সা.) তাঁর হুজরার পর্দা সরিয়ে মসজিদের দিকে তাকান। সাহাবীদেরকে আবু বকর (রা.)-এর পেছনে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সালাতরত অবস্থায় দেখে তাঁর মুখমণ্ডল আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং তিনি মৃদু হাসেন।

তাঁর এই হাসিতে সাহাবীরা এতটাই আনন্দিত হন যে, তাঁরা ভেবেছিলেন রাসুল (সা.) বুঝি সুস্থ হয়ে গেছেন এবং সালাতে যোগ দিতে আসছেন। এমনকি আবু বকর (রা.) পেছনের দিকে সরে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাসুল (সা.) হাত নেড়ে তাঁদের সালাত শেষ করার ইশারা করে আবার পর্দা টেনে দেন। এটিই ছিল সাহাবীদের সাথে তাঁর শেষ দেখা।

কিন্তু দিন গড়িয়ে দুপুরের দিকে তাঁর যন্ত্রণা তীব্র হতে শুরু করে। তিনি হজরত আয়েশা (রা.)-এর কোলে মাথা রেখে শুয়েছিলেন। এ সময় আয়েশা (রা.)-এর ভাই আবদুর রহমান একটি মিসওয়াক (দাঁতন) নিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। রাসুল (সা.) মিসওয়াকের দিকে তাকালে আয়েশা (রা.) বুঝতে পারেন তিনি মিসওয়াক করতে চান। আয়েশা (রা.) সেটি নিজের দাঁত দিয়ে চিবিয়ে নরম করে রাসুল (সা.)-এর মুখে দেন এবং তিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে মিসওয়াক করেন।

এরপরই তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তাঁর সামনে রাখা একটি পানির পাত্রে হাত চুবিয়ে তিনি বারবার মুখমণ্ডল মুছছিলেন আর বলছিলেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, নিশ্চয়ই মৃত্যুর অনেক যন্ত্রণা রয়েছে।”

এরপর তাঁর দৃষ্টি ছাদের দিকে স্থির হয়ে যায়। তাঁর ঠোঁট নড়তে থাকে। তিনি বারবার বলছিলেন,

এটিই ছিল তাঁর শেষ কথা। এর মাধ্যমে তিনি পৃথিবীতে থাকার পরিবর্তে তাঁর রবের সান্নিধ্যকে বেছে নেন। দুপুরের দিকে মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ আত্মা, যাঁর আগমনে পৃথিবী আলোকিত হয়েছিল, তাঁর মহান স্রষ্টার সান্নিধ্যে ফিরে গেল। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।¹⁵⁰

২০.৩ সাহাবীদের প্রতিক্রিয়া: শোক ও স্থিরতার এক অভূতপূর্ব মুহূর্ত

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের খবর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে মদিনায় এক অভূতপূর্ব, হৃদয়বিদারক ও স্তব্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যে মদিনা একদিন তাঁর আগমনে আনন্দে উদ্বেলিত হয়েছিল, আজ তা গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হলো।

স্তব্ধ মদিনা ও ওমরের প্রতিক্রিয়া:

সাহাবীরা তাঁদের প্রিয়তম নেতা, পিতা ও আধ্যাত্মিক আশ্রয়স্থলকে হারিয়ে সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ ও দিশেহারা হয়ে পড়েন। অনেকেই এই মর্মান্তিক সংবাদ কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলেনঢ না। হজরত ওমর ফারুক (রা.)-এর মতো বিশাল দেহের অধিকারী ও দৃঢ় মনোবলের মানুষও প্রচণ্ড আবেগে ও শোকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তিনি কোষমুক্ত তরবারি হাতে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন,

তাঁর এই প্রচণ্ড হুমকির মুখে কেউ তাঁকে শান্ত করার সাহস পাচ্ছিল না। মদিনায় এক চরম সংকটময় মুহূর্তের সৃষ্টি হয়।

আবু বকর (রা.)-এর ঐতিহাসিক ভাষণ:

এই চরম বিশৃঙ্খল, বিভ্রান্তিকর ও আবেগঘন মুহূর্তে হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) মদিনার উপকণ্ঠ ‘সুনহ’ থেকে দ্রুত ঘোড়া ছুটিয়ে আসেন। তিনি কারো সাথে কথা না বলে সরাসরি হজরত আয়েশা (রা.)-এর হুজরায় প্রবেশ করেন। তিনি রাসুল (সা.)-এর পবিত্র মুখমণ্ডল থেকে কাপড় সরিয়ে তাঁর কপালে চুমু খান এবং অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, “আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কোরবান হোক! আপনি জীবনেও যেমন পবিত্র ও সুন্দর ছিলেন, মৃত্যুতেও তেমনই পবিত্র ও সুন্দর।”

এরপর তিনি অসীম ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সাথে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং ওমর (রা.)-কে শান্ত হতে বলে সমবেত জনতাকে উদ্দেশ্য করে এক কালজয়ী ভাষণ দেন:

এরপর তিনি কুরআনের এই আয়াত তেলাওয়াত করেন:

বিশ্লেষণ:

হজরত আবু বকর (রা.)-এর এই ভাষণটি ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল ও অদ্বিতীয় দৃষ্টান্ত। এটি চরম শোকাহত ও বিভ্রান্ত উম্মতকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে, কিন্তু আদর্শ অমর। ইসলাম কোনো ব্যক্তিনির্ভর ধর্ম (Personality Cult) নয়, বরং এটি আল্লাহর চিরন্তন দ্বীন।

আবু বকর (রা.)-এর মুখ থেকে এই আয়াত শোনার পর সাহাবীদের মনে হলো যেন এই আয়াত আজই প্রথম নাজিল হয়েছে। ওমর (রা.) বলেন, “এই আয়াত শোনার পর আমার পা আর আমার শরীরের ভার বইতে পারল ওর না, আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়লাম এবং বুঝতে পারলাম যে আল্লাহর রাসুল সত্যিই ইন্তেকাল করেছেন।”

রাসুলুল্লাহ সা. এর ওফাত
রাসুলুল্লাহ সা. এর ওফাত

২০.৪ দাফন ও জানাযা

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মৃতদেহ গোসল করানোর দায়িত্ব পালন করেন তাঁর নিকটাত্মীয়রা—হজরত আলি (রা.), তাঁর চাচা আব্বাস (রা.), ফজল ইবনে আব্বাস ও উসামা বিন জায়েদ (রা.)। তাঁকে তিনটি সাদা সুতির কাপড়ে কাফন পরানো হয়।

তাঁকে কোথায় দাফন করা হবে, তা নিয়ে সাহাবীদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিলে আবু বকর (রা.) একটি হাদিস স্মরণ করিয়ে দেন, “নবীরা যেখানে ইন্তেকাল করেন, সেখানেই তাঁদের দাফন করা হয়।” এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে হজরত আয়েশা (রা.)-এর হুজরাতেই, ঠিক যে বিছানায় তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন, তা সরিয়ে সেখানেই কবর খনন করে দাফন করা হয়।

তাঁর জানাযার সালাতে কোনো নির্দিষ্ট ইমাম ছিলেন না, যা ছিল এক অনন্য ঘটনা। সাহাবীরা দলে দলে, প্রথমে পুরুষরা, তারপর নারীরা এবং সবশেষে শিশুরা হুজরায় প্রবেশ করে কোনো ইমাম ছাড়াই একাকী তাঁদের প্রিয় নবীর জন্য সালাত ও দরুদ আদায় করেন। এটি প্রমাণ করে তাঁর প্রতি উম্মতের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ও সরাসরি সংযোগ।¹⁵³

২০.৫ উত্তরাধিকার: এক চিরন্তন আমানত

পৃথিবীর রাজা-বাদশাহরা মৃত্যুর সময় বিশাল ধন-সম্পদ, সাম্রাজ্য বা রাজমুকুট রেখে যান। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর উত্তরাধিকারীদের জন্য কোনো জাগতিক ধন-সম্পদ বা রাজত্ব রেখে যাননি। তিনি বলেছেন, “আমরা নবীরা কাউকে উত্তরাধিকারী বানাই না, আমরা যা রেখে যাই তা হলো সাদাকাহ।” তিনি রেখে গেছেন এমন এক অমূল্য ও অবিনশ্বর সম্পদ, যা কিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতিকে পথ দেখাবে:

  • আল-কুরআন: আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ আসমানি কিতাব। এটি এমন এক সংবিধান, যা মানবজাতির বিশ্বাস, বিজ্ঞান, সমাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতির এক পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান।
  • আস-সুন্নাহ: তাঁর কথা, কাজ ও মৌনসম্মতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত জীবন পদ্ধতি, যা হলো কুরআনের বাস্তব ব্যাখ্যা ও প্রায়োগিক রূপ। তাঁর রেখে যাওয়া প্রতিটি সুন্নাহ উম্মতের জন্য এক একটি আলোকবর্তিকা।
  • এক আদর্শ উম্মাহ: তিনি এমন একদল সাহাবী তৈরি করে গেছেন, যাঁরা ছিলেন ঈমান, তাকওয়া, বীরত্ব ও চারিত্রিক মাধুর্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং যাঁদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে ইসলাম বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল।
  • এক আদর্শ রাষ্ট্রব্যবস্থা: তিনি মদিনায় এমন এক রাষ্ট্রের মজবুত ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন, যা ন্যায়বিচার, সাম্য, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

উপসংহার

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনচরিত শুধু একজন ঐতিহাসিক মানুষের জীবনী নয়, এটি একটি আদর্শের নিরঙ্কুশ বিজয়গাঁথা, একটি নতুন বৈশ্বিক সভ্যতার জন্ম এবং মানবতার সার্বিক মুক্তির এক পূর্ণাঙ্গ নীলনকশা। তিনি এক অসভ্য, বর্বর, রক্তপিপাসু ও কুসংস্কারে নিমজ্জিত জাতিকে মাত্র ২৩ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে বিশ্বের সবচেয়ে সুশৃঙ্খল, ন্যায়পরায়ণ ও নৈতিকভাবে উন্নত জাতিতে রূপান্তরিত করেছিলেন।

তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে স্রষ্টার সাথে গভীর আধ্যাত্মিক সম্পর্ক স্থাপন করতে হয় এবং কীভাবে সৃষ্টির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সেবা প্রদর্শন করতে হয়। তাঁর রেখে যাওয়া কুরআন ও সুন্নাহর আলোতেই নিহিত রয়েছে ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সকল সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান।

তাঁর জীবনচরিত (সিরাত) পাঠ করা আমাদের জন্য শুধু একটি ঐতিহাসিক অধ্যয়ন বা গল্প পাঠ নয়, বরং এটি আমাদের মৃত ঈমানকে শাণিত করার, আমাদের চরিত্রকে সুন্দর করার এবং আমাদের দিকভ্রান্ত জীবনকে অর্থবহ করার এক অফুরন্ত ও চিরন্তন উৎস। যতদিন পৃথিবী থাকবে, আকাশে সূর্য উঠবে, তাঁর এই মহান আদর্শ মানবজাতিকে সত্য, সুন্দর, ন্যায় ও কল্যাণের পথে আহ্বান জানাতে থাকবে। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

তথ্যসূত্র: বিংশ অধ্যায়: রাসুলুল্লাহ সা. এর ওফাত

  • ¹⁴⁸ সহীহ আল-বুখারী, হাদিস নং ৬৬৪, ৭২১; আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃ. ৪৪৫।
  • ¹⁴⁹ মুসনাদে আহমাদ, ১/১৯; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৫১৫৬; আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃ. ৪৪৮-৪৪৯।
  • ¹⁵⁰ সহীহ আল-বুখারী, হাদিস নং ৪৪৬২-৪৪৭০; আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃ. ৪৫২-৪৫৩।
  • ¹⁵¹ ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নববীয়্যাহ, ২/৬৫১।
  • ¹⁵² সহীহ আল-বুখারী, হাদিস নং ১২৪১, ৩৬৬৭-৩৬৭০; আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃ. ৪৫৪-৪৫৫।
  • ¹⁵³ ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নববীয়্যাহ, ২/৬৬৪-৬৬৫; আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃ. ৪৬১।

Ha-mim Zubaer